গণসাহিত্যের উপর কাজ করা প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ, বাংলার ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহিদ সোমেন চন্দ। তিনি মার্ক্সবাদী রাজনীতি ও সাহিত্যের আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তি এবং ঢাকার 'প্রগতি লেখক সংঘ' এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত 'কমিউনিস্ট পার্টি'র সার্বক্ষণিক গোপন কর্মী ছিলেন।
- সোমেন চন্দ ২৪মে, ১৯২০ সালে নরসিংদী জেলার পলাশের বালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম সোমেন্দ্র কুমার চন্দ।
- তিনি রণেশ দাশগুপ্ত ও অচ্যুত গোস্বামীর বন্ধু ছিলেন।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে প্রথম গণসাহিত্যের উপর কাজ করেন।
- তিনি 'প্রগতি লেখক সংঘ' এর মুখপত্র 'ক্রান্তি' সম্পাদনা করেন।
- ১৯৩৯ থেকে ১৯৪২ সাল পর্যন্ত তাঁর সাহিত্যিক জীবনের পরিধি। তাঁর জীবদ্দশায় কোনো গ্রন্থ প্রকাশিত হয়নি।
- কলকাতার বাংলা একাডেমি 'সোমেন চন্দ পুরস্কার' প্রবর্তন করেন।
- বাংলা সাহিত্যের তরুণ উদীয়মান সাহিত্যিক কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য, আধুনিক কথাসাহিত্যের স্থপতি সোমেন চন্দ এবং কবি ও কথাশিল্পী খান মোহাম্মদ ফারাবী- এ তিনজনের কেউই ২২ বছরের বেশি জীবিত ছিলেন না।
সোমেন চন্দ রচিত গ্রন্থসমূহঃ
'শিশু তপন' (১৯৩৭): এটি তাঁর প্রথম গল্প। 'সাপ্তাহিক দেশ' পত্রিকায় এটি প্রকাশিত হয়।
'সংকেত ও অন্যান্য গল্প' (১৯৪৩), 'বনস্পতি ও অন্যান্য গল্প' (১৯৪৪)। ১৯৭৩ সালে ঢাকার 'কালিকলম' প্রকাশনী থেকে রণেশ দাশগুপ্তের সম্পাদনায় এই দুটি গ্রন্থের সংযুক্ত রূপ 'সোমেন চন্দের গল্পগুচ্ছ' প্রকাশিত হয়।
তাঁর গল্পগুলিঃ
'ইঁদুর': বাংলা ছোটগল্পের ধারায় 'ইঁদুর' একটি বিশিষ্ট গল্প। জীবনের পরতে পরতে যে বাস্তবের অনুশীলন প্রতিনিয়ত আমরা চর্চা করি, আমাদের শাণিত বোধ যেখানে আটপৌরে সমাজব্যবস্থার কাছে আনত সেখানে একটি ইঁদুরের সংগ্রাম কাহিনি সেই মানুষের বিরুদ্ধে, এটিই এ গল্পের উপজীব্য। এ গল্পটি বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ 'ইঁদুর' গল্প পড়েই কথাসাহিত্য রচনার অনুপ্রেরণা লাভ করেন।
উপন্যাস: বন্যা।
'দাঙ্গা': এ গল্পটি হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার উপর বাংলা ভাষার লেখা প্রথম গল্প।
'সংকেত', 'বনস্পতি', 'স্বপ্ন'।
৮ মার্চ, ১৯৪২ সালে বুদ্ধিজীবী, লেখক সকলে ঢাকা শহরে এক ফ্যাসিবাদ বিরোধী সম্মেলন আহবান করে। সম্মেলন উপলক্ষে ঢাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে। এ দিন সকালে উদ্যোক্তাদের অন্যতম তরুণ সাহিত্যিক সোমেন চক ফ্যাসিবাদ সমর্থকদের হাতে নিহত হন (লক্ষ্মীবাজার হৃষিকেশ দাস লেন মোড়ে)।
Read more